নেপাল সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা, ভারতীয় পণ্যের ওপর কাস্টম শুল্ক আদায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ

ভারত-নেपाल সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। নেপালের সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত বিতর্কিত নতুন কাস্টম শুল্ক নিয়মের কার্যকারিতার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর কাস্টম ডিউটি বা শুল্ক আদায় করার নিয়মটি স্থগিত থাকবে। সম্প্রতি নেপাল সরকার ভারত থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এই কাস্টম নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
জনজীবনে সংকট ও প্রতিবাদ
ভারত ও নেপালের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত থাকার কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, জামাকাপড় এবং খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্য দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেন। নতুন নিয়ম চালুর পর সীমান্ত চৌকিগুলোতে তল্লাশি ও কড়াকড়ি অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি ছিল, দৈনন্দিন ব্যবহারের অতি সামান্য মূল্যের জিনিসের ওপর এই কর আদায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আইনি হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নেপাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হরি প্রসাদ ফুয়াল এবং টেক প্রসাদ ধুঙ্গানার যৌথ বেঞ্চ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই নিয়ম কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনকারীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, সরকারের এই পদক্ষেপ নেপালের কাস্টম অ্যাক্ট ২০৮১-এর মূল ভাবনার পরিপন্থী, কারণ সেখানে স্বল্প মূল্যের পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই রায়ের ফলে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক গতিশীলতা বজায় থাকবে এবং অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সুবিধা পাবেন।
এক ঝলকে
- নেপাল সুপ্রিম কোর্ট ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের ভারতীয় পণ্যের ওপর কাস্টম শুল্ক আদায়ের সরকারি নিয়মে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
- সরকারের এই কঠোর নিয়মের কারণে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ, যাত্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন।
- আদালতের যৌথ বেঞ্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে এই নিয়ম কার্যকর করতে নিষেধ করেছে।
- নিয়মটি নেপালের নিজস্ব কাস্টম আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে সীমান্তে তীব্র জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।