রিলসের নেশায় মানবিকতা বিসর্জন: শাশুড়ির মরদেহের পাশে বসে রিল বানালেন বৌমা, নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড়!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা এবার মানবিক মূল্যবোধ ও শোকের পরিবেশকেও কলুষিত করল। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাড়িতে শোকের আবহ এবং শাশুড়ির মরদেহ পড়ে থাকা সত্ত্বেও এক গৃহবধূ ক্যামেরার সামনে রিল তৈরিতে ব্যস্ত। মানবিকতাকে তুচ্ছ করে এমন সংবেদনহীন আচরণের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ভিডিওর নেপথ্যে থাকা বিতর্ক
ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে দেখা যায়, ঘরে প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণে বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। মৃতদেহের পাশে বসে থাকা ওই নারী শোক প্রকাশ করার পরিবর্তে বারবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অভিনয় করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “শাশুড়ি মা আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন, এখন আমি কার সঙ্গে ভিডিও বানাব?” কান্নার অভিনয় আর ক্যামেরার দিকে নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে তাকানোর এই প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।
ক্ষুব্ধ নেটিজেন ও সমাজতাত্ত্বিক প্রভাব
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনরা ওই গৃহবধূর তীব্র সমালোচনা করছেন। অধিকাংশ ব্যবহারকারীর মতে, রিল সংস্কৃতি মানুষের আবেগ এবং সাধারণ বোধশক্তিকে গ্রাস করে ফেলেছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বইছে সমালোচনার ঢেউ; কেউ বলছেন “মানুষের বিবেক আজ বিলুপ্ত”, আবার কেউ বলছেন “লাইক আর ভিউয়ের নেশা মানুষকে রোবট বানিয়ে দিচ্ছে”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনোযোগ পাওয়ার এই প্রবল ক্ষুধা মানুষের ব্যক্তিগত শোক ও পারিবারিক গোপনীয়তাকে জনসমক্ষে পণ্যে পরিণত করছে। এই ধরনের ঘটনা সমাজে একটি নেতিবাচক বার্তা দেয়, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল পরিচিতি বেশি গুরুত্ব পায়। এই চরম সংবেদনহীনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।