AI-এর অতিরিক্ত ব্যবহার কি ভোঁতা করে দিচ্ছে আমাদের বুদ্ধি? জেনে নিন বাঁচার উপায়!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার কি আমাদের মস্তিষ্ককে অলস করে দিচ্ছে! সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো এআই টুলের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের সৃজনশীলতা, মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বর্তমান প্রযুক্তি বাজারে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গুগল সার্চ—সবখানেই এআইয়ের ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই প্রযুক্তির প্রভাব এড়িয়ে চলা এখন প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক অ্যাডাম গ্রিন এই পরিস্থিতিকে জিমের ব্যায়ামের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, কোনো রোবট যদি আপনার হয়ে ওজন তুলে দেয়, তবে আপনার শরীরের কোনো লাভ হবে না। ঠিক একইভাবে, চিন্তাভাবনার কাজটা যদি এআই করে দেয়, তবে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় চর্চা থেকে বঞ্চিত হবে। মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় কঠিন সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে সক্রিয় থাকে, কিন্তু এআই সেই মানসিক পরিশ্রমের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে মানুষের নিজস্ব ও মৌলিক চিন্তাভাবনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
উপকারিতা বনাম মানসিক আত্মসমর্পণ
অবশ্য বিশেষজ্ঞরা এআইকে পুরোপুরি ক্ষতিকর বলতে নারাজ। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজিস্ট জ্যারেড বেঞ্জ মনে করেন, এআই যদি মানুষের সময় ও মানসিক শক্তি বাঁচিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে, তবে তা ইতিবাচক। তবে ভয়ের জায়গাটি হলো ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা মানসিক আত্মসমর্পণ। গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ব্যক্তিরা চিন্তাভাবনার পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছেন। এমনকি এআই ভুল তথ্য দিলেও অনেকে তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিচ্ছেন, যা স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এর আগেও জিপিএস ব্যবহারের কারণে মানুষের পথ চেনার স্বাভাবিক ক্ষমতা এবং ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো (গুগল ইফেক্ট) ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এআই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি হওয়ায় এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এই ক্ষতি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এআইয়ের সাহায্য নেওয়ার আগে যেকোনো বিষয়ে নিজে কিছুটা ভাবা এবং নিজস্ব মতামত তৈরি করা উচিত। এতে প্রযুক্তি মানুষের চিন্তার বিকল্প না হয়ে বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
এক ঝলকে
- চ্যাটজিপিটি বা এআই টুলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।
- নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের চর্চা কমে যাওয়ায় মানুষের মস্তিষ্ক অলস ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- কোনো বিষয়ে নিজেরা না ভেবে এআইয়ের ভুল তথ্যকেও সঠিক বলে মেনে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বাড়ছে।
- এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে যেকোনো তথ্যের জন্য প্রযুক্তির দ্বারস্থ হওয়ার আগে নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।