পুতিনের বেজিং সফরের ঠিক আগেই চিনা জাহাজে রুশ ড্রোন হামলা! তবে কি ফাটল বন্ধুত্বে?

পুতিনের বেজিং সফরের ঠিক আগেই কৃষ্ণসাগরে চিনা মালবাহী জাহাজে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া! ইউক্রেনীয় প্রশাসনের এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের আবহে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার গভীর রাতে কৃষ্ণসাগরের জলসীমায় এই হামলা চালানো হয় বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সূত্রের দাবি, রুশ বাহিনীর আত্মঘাতী ড্রোন সরাসরি একটি চিনা বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তবে আক্রান্ত জাহাজটির নাম কিংবা হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
কূটনৈতিক অস্বস্তি ও বিশ্ব বাণিজ্য
এই হামলার টাইমিং বা সময় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবারই বেজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিনের। ২০০১ সালের চিন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই মহাসফরের ঠিক আগের মুহূর্তে চিনা জাহাজে রুশ হামলার খবর বেজিংয়ের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে খাদ্যশস্য ও জ্বালানি পরিবহণ ইতিমধ্যেই চরম সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে চিনের মতো পরাশক্তির বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্ব সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এক ঝলকে
- রবিবার গভীর রাতে কৃষ্ণসাগরে একটি চিনা মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
- মঙ্গলবারই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে দু’দিনের বেজিং সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিন।
- এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
- ঘটনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং চিন-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।