কলিযুগের চরম বর্বরতা! মাত্র ২০০০ টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়িওয়ালার হাতে ‘তুলে দিল’ স্বামী!

গুজরাটের মোর্বি জেলায় আধুনিক সভ্যতার মুখে চুনকালি দিয়ে এক চরম অমানবিক ও নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ঘরের বকেয়া ভাড়া মেটাতে না পেরে নিজের স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দিয়েছে এক পাষণ্ড স্বামী। এই সুযোগে বাড়িওয়ালা ও তার এক আত্মীয় মিলে ওই মা ও মেয়ের ওপর দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১ মে নির্যাতিতা নারী মোর্বি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে।
আর্থিক অনটন ও লালসার বলি
পুলিশি তদন্ত ও এফআইআর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে কাজের সন্ধানে ওই পরিবারটি মোর্বি শহরে আসে এবং মাসে ২ হাজার টাকা চুক্তিতে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। কিন্তু স্বামী কোনো স্থায়ী কাজ না পাওয়ায় পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয় এবং সময়মতো ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বকেয়া ভাড়ার বিনিময়ে ওই স্বামী নিজের সম্মতিতে বাড়িওয়ালার হাতে স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যাকে তুলে দেয়। এরপর বাড়িওয়ালা ও তার আত্মীয় মিলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর উপর্যুপরি যৌন নির্যাতন চালায়।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতার
নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের অধীনে একটি মামলা রুজু করেছে। পাশবিক এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে পুলিশ ইতিপূর্বেই অভিযুক্ত স্বামী ও বাড়িওয়ালাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। মোর্বি সিটি ‘এ’ ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক ওয়াই বি জাদেজা জানিয়েছেন যে, ঘটনার মূল ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- গুজরাটের মোর্বি জেলায় ২ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে না পেরে স্ত্রী ও ১৩ বছরের কন্যাকে বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দিল স্বামী।
- বাড়িওয়ালা ও তার এক আত্মীয় মিলে দীর্ঘদিন ধরে ওই মা ও মেয়ের ওপর গণধর্ষণ চালায়।
- নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্ত স্বামী ও বাড়িওয়ালাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে।
- পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর পকসো (POCSO) আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা দায়ের করে বাকি অভিযুক্তদের খুঁজছে।