গার্লস হোস্টেলের সামনে রহস্যময় বাক্স ঘিরে তুমুল আতঙ্ক! পুলিশ খুলতেই চোখ চড়কগাছ!

মহারাষ্ট্রের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার সন্ত তুকারাম নগরে অবস্থিত ডক্টর ডি.ওয়াই. পাতিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজে রাজেশ্বরী গার্লস হোস্টেল’ চত্বরে একটি পরিত্যক্ত বাক্সকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সকাল সোয়া আটটা নাগাদ হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে একটি বড় আকৃতির গিফট বক্স পড়ে থাকতে দেখেন কর্তব্যরত নিরাপত্তা রক্ষী। সম্প্রতি পুনে জুড়ে একাধিক বোমাতঙ্ক ও উড়ো চিঠির পটভূমিতে এই অজ্ঞাত বাক্সটিকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা রক্ষীর তৎপরতায় কালবিলম্ব না করে বিষয়টি অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও তল্লাশি
খবরের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বোমা স্কোয়াড। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তৎক্ষণাৎ পুরো হোস্টেল এলাকা সিল করে দেয় এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে কঠোর নাতাবাদী জারি করে। এরপর অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে ওই রহস্যময় বাক্সটি পরীক্ষার পর খোলা হয়। তবে বাক্সটি খোলার পর পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে, কারণ সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না; তার বদলে উদ্ধার হয় একটি বড় ‘টেডি বিয়ার’ পুতুল।
তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হোস্টেলেরই কোনো ছাত্রীর জন্য উপহার হিসেবে কেউ এই বড় বাক্সটি সেখানে রেখে গিয়ে থাকতে পারে। কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে এটি রাখা না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে সাময়িক বড় বিপর্যয় ও ভীতির সৃষ্টি করে। বর্তমানে ওই উপহারটি কে এবং কার উদ্দেশ্যে রেখে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে হোস্টেল ও তার আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এক ঝলকে
- পুনের ডি.ওয়াই. পাতিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজে রাজেশ্বরী গার্লস হোস্টেলের মূল গেটে একটি বড় পরিত্যক্ত বাক্স উদ্ধার হয়।
- সাম্প্রতিক নানা ঘটনার জেরে বাক্সটিকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বোমাতঙ্ক ছড়ায়।
- পুলিশ ও বোমা স্কোয়াড এলাকাটি সিল করে তল্লাশি চালিয়ে বাক্সটির ভেতর থেকে একটি নিরীহ ‘টেডি বিয়ার’ উদ্ধার করে।
- উপহারটি কে এবং কেন রেখে গেছে তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।