মাঠে ছড়িয়ে শয়ে শয়ে ভোটার কার্ড! নানুরে বিএলও আটক, তুমুল চাঞ্চল্য

বীরভূমের নানুরে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে নানুরের কীর্নাহারের পশ্চিম পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে প্রচুর পুরনো ভোটার কার্ড পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার খবর পেয়ে কীর্নাহার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত কার্ড উদ্ধার করে এবং তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি এবং সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে বীরভূমের বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার আবহে এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই নাম বাদ পড়ার কারণে বহু মানুষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, যার ফলে এই বিপুল পরিমাণ ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।
কমিশনে জমা না দিয়ে নিজের কাছেই রাখার অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লকের চিনিশপুর গ্রামের প্রাক্তন বিএলও, যিনি বর্তমানে কীর্নাহারের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তিনি যখন বিএলও পদে কর্মরত ছিলেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের পুরনো ভোটার কার্ড সংগ্রহ করে তাদের নতুন কার্ড প্রদান করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, সংগ্রহ করা পুরনো ভোটার কার্ডগুলো নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাছেই জমিয়ে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা মাঠের ধারে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি গাফিলতি ও জনমনে ক্ষোভের প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে কেন এই কার্ডগুলো সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়া হলো না এবং কেনই বা তা খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই চরম গাফিলতির কারণে স্থানীয় মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো সংবেদনশীল নথি এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে তথ্যের অপব্যবহার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ আটক বিএলও-কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।