স্বাধীনতার আমলের ঐতিহ্যবাহী পান্ডুয়ার গরুর হাটে চরম মন্দা, কর্মহীন হাজার হাজার মানুষ

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে, ১৯৪৫ সাল থেকে হুগলির পান্ডুয়া হাসপাতালের কাছে জিটি রোডের পাশে বসে আসছে ঐতিহাসিক এক গবাদি পশুর হাট। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সচল থাকা এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি এখন প্রায় বন্ধের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। হাটের ঝাঁপ খোলা থাকলেও সেখানে গরুর দেখা মিলছে যৎসামান্য, আর যা-ও বা আছে, তা কেনার মতো কোনো ক্রেতা নেই। ফলে এই হাটের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অর্থনীতিতে ধস ও জীবিকা হারানোর সংকট
পান্ডুয়ার এই গবাদি পশুর হাটের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের রুজি-রুটি জড়িয়ে রয়েছে। শুধু হুগলি নয়, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য ও জেলার প্রান্ত থেকে এখানে গরু আসত এবং তা কিনতে ভিড় জমাতেন দূর-দূরান্তের ক্রেতারা। বর্তমানে এই সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। প্রশাসন থেকে গরু আনা-নেওয়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে যারা লোন নিয়ে গরু কিনেছিলেন কিংবা এই ব্যবসার জন্য গাড়ি কিনেছিলেন, তারা বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এছাড়া গোবর থেকে ঘুঁটে তৈরি করা বা গরুকে জল খাওয়ানোর মতো ছোটখাটো কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রান্তিক মানুষগুলোও রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
সরকারি নিয়মবিধি ও সমাধানের আশ্বাস
হাট মালিক মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হাটটি সম্পূর্ণ সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং সরকারি নির্দেশ মেনেই তা খোলা রাখা হয়েছে। তাসত্ত্বেও কেন ক্রেতা-বিক্রেতার দেখা মিলছে না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে তাঁদের জীবিকা রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন এবং যেকোনো সরকারি নিয়ম মেনে চলতে তাঁরা প্রস্তুত বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, পান্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার জানিয়েছেন যে, সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও নিয়ম মেনে চললে এই হাট বন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের বাইরে কেউ নন, তাই ব্যবসায়ীদের ভয় না পেয়ে সঠিক নথিপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।