৫ দিনে দ্বিতীয়বার মহার্ঘ জ্বালানি, বিশ্ব সঙ্কটের যুক্তি দিয়ে খরচ কমানোর পরামর্শ দিলীপের

কলকাতাসহ দেশজুড়ে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মঙ্গলবার কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একধাক্কায় ৯০ পয়সা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে নয়াদিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলিতেও। লাগাতার জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ
জ্বালানির এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে গোটা বিশ্বেই একটি বড়সড় সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের এই দরবৃদ্ধি। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাধারণ মানুষের ওপর থেকে এই চাপের বোঝা যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলির কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই সংস্থাগুলিকে জ্বালানির দাম বাড়াতে হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও হাত নেই বলেই তিনি স্পষ্ট করেন।
আমজনতাকে খরচ কমানোর পরামর্শ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ মানুষকে তেল ব্যবহারের খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। বিনা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে সবাইকে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় নেতা-মন্ত্রীদের কনভয়েও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ দিনে দু-দুবার তেলের দাম বাড়ার ফলে বাজারে এর একটি বড়সড় চেইন রিঅ্যাকশন বা চড়া প্রভাব দেখা দিতে পারে। পণ্যবাহী পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আমজনতার দৈনন্দিন বাজেটে বড় ধাক্কা দেবে।