আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকবাজদের তাণ্ডবে রক্তাক্ত ৫ প্রাণ, তদন্তে নামল এফবিআই

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর নিহত হয়েছে দুই হামলাকারীও। ভারতীয় সময় সোমবার রাতে ঘটা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে ইসলামিক সেন্টারে এই হামলা চালানো হয়েছে, তার ভেতরে একটি মসজিদ এবং শিশুদের একটি আবাসিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, হামলার সময় আবাসিক বিদ্যালয়ে থাকা শিশুরা সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ১৭ ও ১৯ বছর বয়সি দুই তরুণ হামলাকারী ওই তিনজনকে গুলি করে খুন করার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর কর্মকর্তা মার্ক রেমিলি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি। নিহতদের পাশাপাশি হামলাকারীদের প্রকৃত পরিচয় ও উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ঘটনার শিকড় খুঁজতে ইতিমিধ্যেই তদন্তভার হাতে নিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সমাজ মাধ্যমে এক বিবৃতি জারি করে জনসাধারণকে এই তদন্তে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ঘৃণা অপরাধের আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সান দিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “যেকোনো মানুষের জন্যই এটি একটি দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।” ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ বা হেট ক্রাইম হিসেবে ধরে নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এমন পরিকল্পিত হামলা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর বড়সড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও তীব্র নিরাপত্তা হীনতা তৈরি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন সান দিয়েগোর মেয়র। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর)-এর সান দিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, প্রার্থনা এবং শিশুদের পড়াশোনার মতো পবিত্র সময়ে যাতে এমন প্রাণঘাতী হামলা আর কখনো না ঘটে, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় আচার পালনের সময় কাউকে যেন এমন শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাতে না হয়, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি। এফবিআই-এর তদন্তের পর এই হামলার নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণবাদী বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।