মেয়রের সিদ্ধান্ত ছাড়া তিলজলায় বাড়ি ভাঙা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা, কালীঘাটে তলব ববি-অতীনদের

মেয়রের সিদ্ধান্ত ছাড়া তিলজলায় বাড়ি ভাঙা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা, কালীঘাটে তলব ববি-অতীনদের

কলকাতা পুরসভার কাজের গতি এবং সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিলজলায় মেয়রের অজান্তে একটি বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ সহ প্রায় সমস্ত মেয়র পারিষদকে কালীঘাটের বাসভবনে তলব করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পুরসভার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে বৈঠকে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

তিলজলা কাণ্ডে ক্ষোভ ও আইনি রদবদল

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তিলজলার একটি বিতর্কিত নির্মাণে বুলডোজার চালানো নিয়ে পুরসভার ভূমিকায় তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মেয়র বা মেয়র পারিষদদের যৌথ সিদ্ধান্ত ছাড়া কীভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা নিয়ে জবাবদিহি চান তিনি। জবাবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, অগ্নিকাণ্ড বা অতি বিপজ্জনক বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে পুর কমিশনারের নিজস্ব ক্ষমতাবলে ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে, যেখানে মেয়র পারিষদের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না।

তবে এই যুক্তিতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হননি মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভার আইন বিভাগের কাজকর্ম নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আইনি লড়াই আরও মজবুত করতে অবিলম্বে দলের এক সাংসদের আইনজীবী পুত্রকে পুরসভার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করার নির্দেশ দেন তিনি।

পুর পরিষেবায় ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাব

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই শাসক দল পিছিয়ে পড়েছে। এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে পুর পরিষেবার খামতি একটি বড় কারণ বলে মনে করছে শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম ও অতীন ঘোষদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দেন, তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। মানুষের কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি বা গাফিলতি তিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরসভার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে যাতে দলের জনসংযোগে আরও ক্ষতি না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই জরুরি হস্তক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার বেআইনি নির্মাণ দমন এবং নাগরিক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ও বাড়তি সতর্কতা দেখা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *