ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধ, মেধার জয়গানে ফিরল স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ

ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধ, মেধার জয়গানে ফিরল স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ

রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড়সড় নীতিগত পরিবর্তন এল। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত রকম ভাতা বন্ধ করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক পথে হেঁটে, জাতপাত ও ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনরায় চালু করা হলো ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ প্রকল্প’ (SVMCM)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই ঘোষণা করে জানিয়েছেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া কৃতি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতেই এই মেধাভিত্তিক বৃত্তির পুনরুজ্জীবন ঘটানো হলো।

এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন খয়রাতি ভাতার রাজনীতির অবসান ঘটবে, অন্যদিকে প্রকৃত মেধাবী ও দুস্থ পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক নিরাপত্তা পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কারা পাবেন এই সুবিধা ও আবেদনের যোগ্যতা

একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত অধ্যয়নরত পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দারা এই স্কলারশিপের সুবিধা নিতে পারবেন। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক।

  • আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২,৫০,০০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।
  • শেষ পরীক্ষায় অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক (কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য) ছাড়াও ইউজিসি অনুমোদিত বিভিন্ন পেশাদারি কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা এর আওতাভুক্ত হবেন।

কোর্সের ধরন অনুযায়ী বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারিত করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ ও পেশাদারি কোর্সের পড়ুয়ারা মাসে ১,৫০০ টাকা (বছরে ১৮,০০০ টাকা) এবং কলা ও বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়ারা মাসে ১,০০০ টাকা (বছরে ১২,০০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, নার্সিং, ফার্মেসি এবং পিএইচডি গবেষকরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথি

রাজ্যের স্কুলগুলিতে একাদশ শ্রেণিতে এবং কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এই শিক্ষাবর্ষের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী পড়ুয়াদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট svmcm.wbhed.gov.in-এ গিয়ে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে হবে। নতুন রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইল ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সময় কৃতি পড়ুয়াদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আপলোড করতে হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো মাধ্যমিক ও শেষ পরীক্ষার মার্কশিট, বর্তমান কোর্সে ভর্তির রসিদ, পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র, বসবাসের প্রমাণপত্র এবং ব্যাঙ্ক পাসবুকের স্ক্যান কপি। এই বৃত্তির টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *