সরকার বদলাতেই অ্যাকশন, লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রধান

সরকার বদলাতেই অ্যাকশন, লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রধান

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন প্রশাসন। তৃণমূল জমানার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি অ্যাকশনে নামল পুলিশ। সোমবার রাতে পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল এবং অন্ডালের ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রামচরিত পাশওয়ানকে। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এভাবে একের পর এক জনপ্রতিনিধি পুলিশের জালে জড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের তির ও পুলিশের তৎপরতা

পুলিশ সূত্রের খবর, বিধাননগরের কেষ্টপুর এলাকায় একটি দোকান সংস্কারের কাজ করার জন্য এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল। দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ওই কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে, অন্ডালের ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামচরিত পাশওয়ানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লুটপাট, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগ আসছিল। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের টার্গেট করে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের পর, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে দুর্গাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের এই জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ এতদিন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে রাজ্যে শাসনভার বদলাতেই প্রশাসনের সেই জড়তা কেটেছে এবং পুলিশ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই সমস্ত গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না, প্রশাসনের এই কড়া বার্তা আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *