নবান্নের কড়া বার্তা, এবার কি সরকারি খরচে লাগাম পরবে!

নবান্নের কড়া বার্তা, এবার কি সরকারি খরচে লাগাম পরবে!

রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা ফেরাতে এবং রাজকোষের ওপর চাপ কমাতে এক নজিরবিহীন কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথে হাঁটল নবান্ন। সোমবার রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে খরচ কমানোর বা ব্যয় সংকোচনের কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে মুখ্যসচিবের দপ্তর। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সই করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সরকারি সম্পদের অপচয় রুখতে এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

খরচ কমাতে সাত দফা দাওয়াই

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মুখ্যসচিব তাঁর নির্দেশিকায় মূলত সাতটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বারবার সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সেই লক্ষ্যেই এবার সরকারি বৈঠক বা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সিং, ভার্চুয়াল সভা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাজের গুণগত মানের সঙ্গে আপস না করে যেখানে সম্ভব, কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, অপ্রয়োজনীয় সরকারি সফর বাতিল করা, যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন, কারপুল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কাগজের খরচ বাঁচাতে ‘ই-অফিস’ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য হ্রাস এবং স্বদেশি বা দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য কেনাকাটায় অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়।

দ্রুত অ্যাকশন প্ল্যানের নির্দেশ

এই ব্যয় সংকোচন নীতি কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, প্রতিটি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই পরিকল্পনার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—তিনটি স্তর থাকবে। আগামী ২২ মে-র মধ্যে এই কর্মপরিকল্পনা মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই নির্দেশিকা কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা খতিয়ে দেখতে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে রাজ্যকে রিপোর্টও পাঠাতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাবের ফলে সরকারি স্তরে অপচয় অনেকটাই কমবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *