বুলডোজারের ধাক্কায় ঘরছাড়া নন্দীগ্রামের চার পরিবার! হাইকোর্টের নির্দেশে চলল উচ্ছেদ অভিযান

বুলডোজারের ধাক্কায় ঘরছাড়া নন্দীগ্রামের চার পরিবার! হাইকোর্টের নির্দেশে চলল উচ্ছেদ অভিযান

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভার বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তৃতীয় খন্ড জলপাই এলাকায় সেচ দফতরের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ অবশেষে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। উচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর ফলে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে সেখানে বসবাস করা চারটি পরিবার আকস্মিকভাবে গৃহহারা হয়ে পড়েছে।

উচ্ছেদের কারণ ও আকস্মিকতার অভিযোগ

সেচ দফতরের আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, যে জমিতে পরিবারগুলি বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছিল, সেটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি সেচ দফতরের অধীনস্থ। দফতর থেকে তাদের বারবার এলাকা খালি করার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় প্রশাসনকে। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পর মঙ্গলবার দুপুরে বুলডোজার এনে অবৈধ পাকা ও আধা-পাকা ঘরবাড়িগুলি ভেঙে ফেলা হয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অভিযান চলাকালীন এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

তবে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সদ্য গৃহহারা পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা শেখ নজরুল ইসলামের দাবি, তাদের আগাম কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়েই সোমবার বিকেলে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ এসে মৌখিকভাবে ঘর খালি করার কথা বলে। এরপর ২৪ ঘণ্টাও সময় না দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিকভাবে বুলডোজার চালিয়ে সব ভেঙে দেওয়া হয়। কোনো বিকল্প বাসস্থান না থাকায় খোলা আকাশের নিচে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

হলদিয়ার প্রাক্তন কাউন্সিলরের সম্পত্তি ঘিরে তদন্তের দাবি

নন্দীগ্রামের এই উচ্ছেদ আবহের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী হলদিয়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব পট্টনায়কের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং ২০১২ ও ২০১৭ মেয়াদে মা ও নিজের কাউন্সিলর পদকে কাজে লাগিয়ে এই পরিবারের উল্কা গতিতে অর্থনৈতিক উত্থান ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০১৭ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পরপরই তিনি একটি চার তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবারসহ একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। কারখানায় শ্রমিক নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাধারণ শিক্ষকতা ও কাউন্সিলরের আয়ে কীভাবে এই বিশাল বৈভব এবং বিদেশ ভ্রমণের খরচ মেটানো সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন এই প্রাক্তন কাউন্সিলরের আয়ের উৎসের খোঁজে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *