ভোটের মুখে ফলতায় নাটকীয় মোড়, তৃণমূলের ‘পুষ্পা’ পালাতেই ‘হাত’ বাড়াল কংগ্রেস

ভোটের মুখে ফলতায় নাটকীয় মোড়, তৃণমূলের ‘পুষ্পা’ পালাতেই ‘হাত’ বাড়াল কংগ্রেস

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক শূন্যতা। ভোটের প্রচারের শেষলগ্নে এসে মাঠ ছাড়লেন তৃণমূলের ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসেবে পরিচিত তথা দলের অন্যতম প্রধান ভরসা জাহাঙ্গির খান। এলাকায় ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এই নেতার আকস্মিক দলত্যাগ বা সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আর এই মোক্ষম সুযোগটিকে হাতছাড়া না করে ফলতার তৃণমূল কর্মীদের নিজেদের দিকে টানতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমে পড়েছে কংগ্রেস।

লড়াইয়ের আগেই কেন পিছু হটলেন ‘পুষ্পারাজ’?

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকেই ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল বেশ উত্তপ্ত। ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে। এরপরই আইনি সাঁড়াশির মুখে পড়েন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যার জেরে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে তাঁকে রক্ষাকবচও নিতে হয়েছিল। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং এলাকায় বিজেপির হেভিওয়েট প্রচারের ফলে তৈরি হওয়া ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ আঁচ করেই শেষ পর্যন্ত এই হেভিওয়েট নেতা লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছু হটেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের ঠিক একদিন আগে বিজেপির ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিলের দিনই তৃণমূলের এই নির্বাচনী বিপর্যয় দলটির জন্য বড় ধাক্কা।

তৃণমূল কর্মীদের প্রতি শুভঙ্করের বার্তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূল প্রার্থীর এই নাটকীয় অন্তর্ধানের পরপরই আসরে নেমেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ‘হাত’ শিবিরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শুভঙ্কর সরকারের দাবি, বিজেপিকে একমাত্র কংগ্রেসই রুখতে পারে। তিনি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যায়ের শিকার না হয়ে বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা যেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রেজ্জাক মোল্লাকে ভোট দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতায় তৃণমূলের এই আকস্মিক বিপর্যয় এবং কংগ্রেসের সক্রিয়তা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক ভোটব্যাংক অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় তা কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে বিরোধী শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেল, যা ফলতার নির্বাচনী সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *