সংসার নয়, নিজের কেরিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে বিবাহিত নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ডাক কঙ্গনার!

সংসার নয়, নিজের কেরিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে বিবাহিত নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ডাক কঙ্গনার!

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী নির্যাতন ও গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা। সম্প্রতি প্রাক্তন ‘মিস পুণে’ তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু থেকে শুরু করে পাঞ্জাবের জনপ্রিয় গায়িকাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে বিবাহিত নারীদের ওপর হওয়া নানাবিধ নির্যাতনের চিত্র প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে। দেশের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বিবাহিত নারীদের অধিকার ও মানসিক অবস্থান নিয়ে এবার সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হলেন মাণ্ডির বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

পিতৃতান্ত্রিক সমাজের চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন কঙ্গনা। ভারতীয় সমাজব্যবস্থার এক রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিয়ের পর বহু শিক্ষিত তরুণী শ্বশুরবাড়ির দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে বাঁচতে নিজেদের বাবা-মায়ের কাছে আকুতি জানায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতীয় সমাজ বিয়ের পর মেয়েদের এক প্রকার ‘পরিত্যক্ত’ বা পর করে দেওয়ার মানসিকতার জন্যই পরিচিত। এই সামাজিক উদাসীনতা ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণেই নারীরা দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হন, যা অনেক সময় চরম পরিণতি ডেকে আনে।

স্বাবলম্বী হওয়াই একমাত্র হাতিয়ার

এহেন প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নারীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন এই তারকা সাংসদ। কঙ্গনার মতে, কোনো সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড বা ডেটিং অ্যাপ জীবনের সঠিক দিশা দেখাতে পারে না। নারীদের জীবনের আসল রক্ষাকর্তা বা ‘হিরো’ হতে হবে তাদের নিজেদেরই। বাইরে থেকে কেউ উদ্ধার করতে আসবে না—এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে বিয়ের আগে পুরোপুরি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ সমাজের ওপর প্রভাব

কঙ্গনা স্পষ্ট জানান, কে কাকে বিয়ে করছেন বা কার কী ব্যক্তিগত পরিচয়, তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজস্ব পেশা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। জীবনের যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে কেরিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে আসা এই বক্তব্য একদিকে যেমন অত্যাচারিত নারীদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তা সমাজকে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে এবং তাঁদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *