পরবর্তী শুভেন্দু কি রেবন্ত, তেলেঙ্গানায় বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত

দক্ষিণের রাজ্য তেলেঙ্গানার রাজনীতিতে এক বিরাট ওলটপালটের ইঙ্গিত মিলছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উদাহরণ টেনে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ ধর্মপুরী অরবিন্দ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি আগামী দিনে কংগ্রেস ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন এবং তিনি হতে পারেন দক্ষিণের ‘শুভেন্দু অধিকারী’। এই মন্তব্যের পর থেকেই জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিজেপি সাংসদের বিস্ফোরক দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিজেপি সাংসদ ধর্মপুরী অরবিন্দ কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করে জানিয়েছেন, দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের উপেক্ষা করে রেবন্ত রেড্ডিকে মুখ্যমন্ত্রী করা কংগ্রেস হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হবে দলকে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ১৯৮৫ বা ১৯৯৪ সালের মতোই শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হবে কংগ্রেসকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছেন, তেলেঙ্গানাতেও রেবন্ত রেড্ডিকে নিয়ে তেমন কোনো চিত্রনাট্য তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই জল্পনার সূত্রপাত অবশ্য কিছুদিন আগে হায়দরাবাদের একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে রেবন্ত রেড্ডিকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আপনি যেখানে পৌঁছাতে চান, সেখানে হয়তো পৌঁছাতে পারবেন না। তাই উচিত আমার সঙ্গে যোগ দেওয়া।” প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য আহ্বানের পর বিজেপি সাংসদের নতুন এই দাবি তেলেঙ্গানার শাসক শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। যদি এই জল্পনা সত্যি হয়, তবে দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের হাত থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ফসকে যেতে পারে, যা জাতীয় স্তরে বিজেপির হাতকে আরও শক্তিশালী করবে।