ভেঙে পড়তে পারে রাজ কপূর ও দিলীপ কুমারের পৈতৃক ভিটে, পাকিস্তান সরকারের চরম অবহেলায় ক্ষুব্ধ অনুরাগীরা

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কপূর এবং দিলীপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি দুটি এখন ধ্বংসের মুখে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহাসিক এই ভবন দুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার এই বাড়ি দুটিকে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর সংরক্ষণে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
অর্থ বরাদ্দ হলেও থমকে আছে কাজ
নথি অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার এই ঐতিহ্যশালী বাড়ি দুটি কিনে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঐতিহাসিক ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য আরও ৩.৩৮ কোটি পাকিস্তানি রুপি অনুমোদন করা হয়। তবে সরকারিভাবে অনুদান অনুমোদন করা হলেও সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও তহবিলের অভাবে সংস্কার কাজ পুরোপুরি থমকে রয়েছে এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও কোনো দায়িত্ব নেয়নি।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও চরম বিপর্যয়
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক বাড়ি দুটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িগুলোর আনাচকানাচে আগাছা গজিয়ে উঠেছে এবং জঞ্জাল জমে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে, নিয়মিত পরিচর্যার অভাব এবং ঝড়-বৃষ্টির দাপটে এমনিতেই ভবন দুটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি বাড়ি দুটিকে আরও নড়বড়ে করে তুলেছে। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে আগামী কিছু দিনের মধ্যে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দুটি চিরতরে মাটিতে মিশে যেতে পারে।
হারিয়ে যাচ্ছে সোনালী ইতিহাস
এই বাড়ি দুটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক সোনালী অধ্যায়। পেশোয়ারের খাওয়ানি বাজারে ১৯১৮ সালে রাজ কপূরের ঠাকুরদা দেওয়ান বশেশ্বরনাথ কপূর তাঁদের পারিবারিক বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে রাজ কপূর ও তাঁর কাকা ত্রিলোক কপূরের জন্ম হয়েছিল। অন্যদিকে, মহল্লা খুদাদত অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ‘পেশোয়ারি’ আদলে তৈরি হয়েছিল দিলীপ কুমারের পৈতৃক ভিটে। একসময় উৎসব-অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকা এই ঐতিহাসিক ‘হাভেলি’ দুটি আজ কেবলই ধ্বংসস্তূপ। সরকারের এই চরম উদাসীনতা বজায় থাকলে উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক বড় অধ্যায় চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।