রূপচর্চার চেনা ছক ভাঙলেন রুবিনা, ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিলেন কড়া বার্তা

রূপচর্চার চেনা ছক ভাঙলেন রুবিনা, ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিলেন কড়া বার্তা

বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের চেহারা, পোশাক বা বয়স নিয়ে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ বা ট্রোলিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের নেতিবাচকতার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুবীনা দিলায়ক। তাঁকে দেখতে ‘বুড়ি’ লাগে কিংবা তিনি ‘বোটক্স’ বা ‘ফেসলিফট’-এর মতো কৃত্রিম উপায়ে মুখের অবয়ব পরিবর্তন করেছেন— এমন নানাবিধ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত ট্রোলিং ও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি নিজের মানসিক রূপান্তরের গল্প শুনিয়েছেন অভিনেত্রী।

নেতিবাচকতা জয় করে আত্মবিশ্বাসের নতুন দিগন্ত

রুবীনা জানান, একটা সময় এই ধরনের কদর্য মন্তব্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করত এবং তিনি তীব্র মানসিক কষ্ট পেতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে বদলেছেন এবং এখন তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। অভিনেত্রীর মতে, মানুষের চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু সেই মন্তব্যে তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণে। কটাক্ষকারীদের কথায় কান দেওয়া বন্ধ করে তিনি এখন নিজের অনুভূতির চাবি নিজের হাতেই রেখেছেন।

কৃত্রিম সৌন্দর্যের অন্ধ অনুকরণ ও সামাজিক মানসিকতার সংকট

বর্তমান সময়ে নিখুঁত সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি হয়েছে, যেখানে মোটা ঠোঁট, টিকলো নাক বা শার্প জ লাইনের মতো বৈশিষ্ট্য না থাকলে কাউকে ‘সুন্দরী’ বলে গণ্য করা হয় না। রুবীনা এই কৃত্রিম ও একঘেয়ে সৌন্দর্যের ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই অন্ধ অনুকরণের ফলে সবাইকে একই রকম দেখতে লাগছে, যা ঈশ্বরের অনন্য সৃষ্টিকে অবমাননা করার শামিল। প্রতিটি মানুষের শারীরিক গঠন যে আলাদা এবং সেই বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোই যে উচিত, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

রুবীনার এই সাহসী অবস্থান বিনোদন জগতে এবং সাধারণ নারীদের মধ্যে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি কেবল ট্রোলারদের মুখ বন্ধ করার জবাব নয়, বরং সমাজমাধ্যমে তৈরি হওয়া সৌন্দর্যের অবাস্তব মানদণ্ডের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ, যা বহু মানুষকে নিজের শরীরের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *