ত্বিশার রহস্যমৃত্যুতে ফরেনসিক ত্রুটি, ময়নাতদন্তে কেন পাঠানো হলো না ফাঁসের বেল্ট?

ভোপালে এমবিএ স্নাতক ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর ঝুলন্ত দেহের ফাঁসের বেল্টটি ময়নাতদন্তের সময় ফরেনসিক পরীক্ষাগারেই পাঠানো হয়নি। এই গুরুতর ত্রুটির কারণে মৃত্যুর আসল কারণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ত্বিশার গলায় ফাঁসের যে দাগ পাওয়া গিয়েছে, সেটির সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বেল্টটি মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি ছিল। চিকিৎসকদের মতে, ফাঁসের বস্তুটির গঠন ও উপাদানের সাথে গলার ক্ষতের দাগ মিলিয়ে দেখার নির্দিষ্ট ফরেনসিক প্রোটোকল রয়েছে। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিকের চরম উদাসীনতায় বেল্ট ছাড়াই প্রথম দফার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়ে যায়। এই গাফিলতি প্রকাশ্যে আসার পর তড়িঘড়ি ভুল শুধরে নিতে বেল্টটি ভোপাল এইমসে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা ত্বিশা দিল্লির একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাসিন্দা আইনজীবী সমর্থ সিংহের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। সমর্থের মা গিরিবালা সিংহ একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। গত ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই পরিবার দাবি করে আসছে এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শ্বাশুড়ি প্রভাবশালী ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক হওয়ায় তিনি নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে পুলিশি তদন্তের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তীব্র হচ্ছে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি
ময়নাতদন্তে এমন নজিরবিহীন ‘ত্রুটি’ সামনে আসার পর নিহতের পরিবার নতুন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং জনরোষের জেরে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে ফরেনসিকের এই প্রাথমিক গাফিলতি মামলার আইনি ভবিষ্যৎ এবং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।