একুশের হিংসায় নিহত ৩২১ কর্মীর পরিবারকে সরকারি চাকরি, ফলতা থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

একুশের হিংসায় নিহত ৩২১ কর্মীর পরিবারকে সরকারি চাকরি, ফলতা থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

একুশের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। একুশের সেই নজিরবিহীন হিংসায় নিহত দলের ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের এক নির্বাচনী জনসভা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে বিগত জমানায় ফলতার বুকে আক্রান্ত ও ঘরছাড়া হওয়া বিজেপি কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

শহিদ পরিবারগুলির পাশে নতুন সরকার

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক অশান্তি এবং হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। বিগত সরকারের আমলে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক অত্যাচার ও হামলার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিজেপি নেতৃত্ব। ফলতার নির্বাচনী মঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, একুশের নির্বাচনের পর রাজ্যের জেলায় জেলায় তাঁদের ৩২১ জন কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল। নতুন সরকার এই শহিদ পরিবারগুলির পাশে রয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায় এবং সামাজিক নিরাপত্তা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্রান্তদের জন্য বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ

বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক দাপটের কারণে বহু কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং অনেকের ব্যবসা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, বিগত দিনে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা রুজি-রুজি হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস কমবে এবং শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *