ফলতায় ভোটের আগেই বড় চমক, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে লড়াই ছাড়লেন ‘বাহুবলি’ জাহাঙ্গির

ফলতায় ভোটের আগেই বড় চমক, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে লড়াই ছাড়লেন ‘বাহুবলি’ জাহাঙ্গির

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেল। ভোটের প্রচার শেষের ঠিক মুখে এক নাটকীয় মোড় নিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার আচমকাই এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর বড় ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় তাঁর গলায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই হেভিওয়েট ‘বাহুবলি’ নেতার এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জাহাঙ্গিরের যুক্তি

দিনকয়েক আগেই ফলতার নির্বাচনী জনসভা থেকে জাহাঙ্গির খানের ‘ভার’ নিজের হাতে নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ফলতার সার্বিক দায়িত্ব তিনি নিজেই সামলাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার ঠিক চার দিনের মাথায় ভোটের ময়দান থেকে সম্পূর্ণ পিছু হটে গেলেন জাহাঙ্গির। তবে এই পলায়নের পেছনে এক অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, ফলতার সাধারণ মানুষের উন্নয়ন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কারণ ও বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শাসকের এই পিছু হটার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং শাসক শিবিরের ওপর তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক চাপ। এই ঘটনার পর তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই সুযোগে তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করেছে বিজেপি এবং সিপিএম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানো নেতারা আজ ভয়ের চোটে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, এই নেতাদের সমস্ত ঔদ্ধত্য আসলে ফাঁপা এবং ভয়ের কারণেই তারা মাঠ ছেড়ে পালালেন, যেখানে বামপন্থীরা শত আক্রমণের মুখেও মাটি কামড়ে লড়াই করে। এই ঘটনার ফলে ফলতার ভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *