শুধু সেমিনার হল নয়, আর জি করের সম্পূর্ণ অকুস্থল সিল করার কড়া নির্দেশ হাই কোর্টের!

শুধু সেমিনার হল নয়, আর জি করের সম্পূর্ণ অকুস্থল সিল করার কড়া নির্দেশ হাই কোর্টের!

আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস অভয়া কাণ্ডে তদন্তের পরিধি আরও বাড়াতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেবল হাসপাতালের সেমিনার হল নয়, ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকা সম্পূর্ণ অকুস্থল অবিলম্বে সিল করতে হবে সিবিআইকে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।

আদালতের কড়া অবস্থান ও সিবিআইকে নির্দেশ

মঙ্গলবার মামলার শুনানির সময় আর জি করের পরিস্থিতি নিয়ে সিবিআই-এর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতিরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে জানতে চান, তদন্তভার নেওয়ার সময় ঠিক কোন কোন জায়গা সিল করা হয়েছিল? জবাবে সিবিআই কেবল সেমিনার হলের কথা উল্লেখ করলে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতিতার পরিবার দাবি করে আসছিল যে, সেমিনার হলের পাশের ঘর এবং আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের চেম্বারের সঙ্গে এই ঘটনার গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে। পরিবারের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই আদালত সন্দীপ ঘোষের চেম্বারসহ সন্দেহভাজন সবকটি জায়গা দ্রুত সিল করার নির্দেশ দেয়, যাতে কোনোভাবেই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না হতে পারে।

তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক তৎপরতা

আদালতের এই নতুন নির্দেশিকার ফলে অভয়া কাণ্ডের তদন্তে এক বড়সড় মোড় আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অকুস্থলের সম্পূর্ণ অংশ সিল হওয়ার ফলে অনেক গোপন তথ্যপ্রমাণ সামনে আসতে পারে, যা এর আগে হয়তো প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই অভয়া ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তৎকালীন কলকাতা পুলিশের তিন প্রভাবশালী আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছেন। নবান্ন থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রীদের কী ভূমিকা ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ওই পুলিশ কর্তাদের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার নেপথ্যের আসল ষড়যন্ত্রীকে, তা খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের এই নতুন পদক্ষেপের পর আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *