ফলতার নির্বাচনে ভোট যুদ্ধের আগেই রণে ভঙ্গ জাহাঙ্গিরের, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ‘পুষ্পা’ মডেলের পতন!

ফলতার নির্বাচনে ভোট যুদ্ধের আগেই রণে ভঙ্গ জাহাঙ্গিরের, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ‘পুষ্পা’ মডেলের পতন!

আগামী ২১শে মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন। আজ, মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে শেষ হচ্ছে হাইপ্রোফাইল প্রচার পর্ব। কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নেই রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও ওলটপালট করা ঘটনা। ভোটের ময়দান থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন ফলতার দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘বাহুবলী’ নেতা জাহাঙ্গির খান।

আজ দুপুরে আকস্মিক এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে ভোটের লড়াই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন জাহাঙ্গির। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেটমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা বয়ে দিয়ে বিরোধীরা বলছেন— শুভেন্দুর ভয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ঝুঁক গিয়া পুষ্পা’।

‘ওর দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দিন’, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির চার দিনেই ম্যাজিক!

ঠিক দিন চারেক আগে ফলতার এক মেগা নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “ফলতায় ভোট লুট করতে এলে কীভাবে ঠান্ডা করতে হয় তা জানা আছে। জাহাঙ্গির খানের ভার এবার আমি নিজের হাতে নিলাম। ওর সমস্ত হিসাব বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দিন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারি এবং গত কয়েক দিনে দক্ষিণ দমদমের সুজিত বসু বা সল্টলেকের সোনা পাপ্পুর মতো রাঘববোয়ালদের ইডি-পুলিশের যৌথ অ্যাকশনে শ্রীঘরে যাওয়ার পর থেকেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই প্রশাসনিক ও আইনি চাপের জেরেই আজ কার্যত হাত জোড় করে রণে ভঙ্গ দিলেন এই দাপুটে নেতা। যদিও নিজের এই পলায়নের পেছনে জাহাঙ্গির খানের সাফাই, “ফলতার মানুষের উন্নয়ন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কাজ করছেন, তা প্রশংসনীয়।”

ডায়মন্ড হারবার মডেলে ধস, ‘লেজ গুটিয়ে পালাল’ বলে তীব্র কটাক্ষ সুকান্ত-সুজনের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলের’ অন্যতম প্রধান খুঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই জাহাঙ্গির খান। ফলে ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁর এভাবে ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের গালে মস্ত বড় চড় হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

এই চরম আত্মসমর্পণের পরেই তৃণমূলকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি ও বাম নেতৃত্ব:

  • সুকান্ত মজুমদার (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী): “শুভেন্দুর অ্যাকশনের ভয়ে একেবারে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন উনি। এখন ওনার সেই অহংকারী ‘বস’ কোথায় গেলেন? যিনি রাষ্ট্রশক্তি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন— আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে হাত দিয়ে দেখাক! আজ তো পুরো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সেই ভাইপোর সিন্ডিকেট।”
  • সুজন চক্রবর্তী (সিপিএম নেতা): “তৃণমূলের এই নেতাদের মুখে শুধু বড় বড় কথা আর ঔদ্ধত্য ছিল। যেই দেখল নতুন সরকারের পুলিশ আর ফ্রি হ্যান্ডে কাজ করছে, অমনি ভয়ের চোটে লড়াই ছেড়ে দিল। সিপিএমের ওপর বিগত দিনে এর চেয়েও বেশি অত্যাচার হয়েছে, তাও আমাদের প্রার্থীরা মাটি কামড়ে লড়াই করেছে, কাপুরুষের মতো পালিয়ে যায়নি।”

নতুন সরকারের জমানায় ফলতার এই অভাবনীয় রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো একসময়ের দুর্ভেদ্য ঘাসফুল দুর্গেও এখন পরিবর্তনের হাওয়া অত্যন্ত প্রবল। এই খবরটির আরও বিস্তারিত এবং প্রশাসনিক আপডেট কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে। বিস্তারিত জানতে পেজটি রিফ্রেশ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *