আরও বিপদে অভিষেক! এবার তাঁর ও বাবা-মায়ের ২১টি সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান চাইল কলকাতা পুরসভা

আরও বিপদে অভিষেক! এবার তাঁর ও বাবা-মায়ের ২১টি সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান চাইল কলকাতা পুরসভা

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর প্রশাসনিক ও আইনি চাপ ক্রমেই অলআউট রূপ নিচ্ছে। হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট রোডের দুটি বাড়ির পর এবার খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর বাবা-মায়ের নামে থাকা একগুচ্ছ সম্পত্তির ওপর বড়সড় অ্যাকশন নিল কলকাতা পৌরসংস্থা (KMC)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) সংস্থার মোট ২১টি সম্পত্তির নির্মাণ অনুমোদন বা বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত সমস্ত নথি তলব করেছে পুরসভা।

পৌরসংস্থার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে এই ২১টি সম্পত্তির ঠিকানায় ইতিমধ্যেই অফিশিয়াল নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে শুভেন্দু অধিকারী বসার পরপরই কালীঘাটের এই মেগা সম্পত্তি স্ক্যানারে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কেএমসি-র ৪০১ ধারায় নোটিশ, কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় (Section 401 of KMC Act) এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখতে চান, এই ২১টি সম্পত্তি নির্মাণের সময় পুরসভার দেওয়া আসল নকশা বা প্ল্যান হুবহু মানা হয়েছিল কি না, নাকি অনুমোদনের বাইরে গিয়ে কোনো বেআইনি নির্মাণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। সম্পত্তির প্রকৃত বৈধতা এবং কাঠামোগত নকশার সঙ্গতি যাচাই করতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

১০ থেকে ১৫ দিনের ডেডলাইন, কী জানাচ্ছে পুরসভা?

কলকাতা পুরসভা সূত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র পুরসভার বিল্ডিং বিভাগে জমা দিতে হবে।

তবে পুরসভার পক্ষ থেকে একটি বিকল্প রাস্তাও খোলা রাখা হয়েছে। যেহেতু সম্পত্তির সংখ্যা অনেক এবং এতগুলি পুরোনো নথি একসঙ্গে জোগাড় করা সময়সাপেক্ষ, তাই এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত নোটিশ ও কাগজপত্র জোগাড় করতে না পারলে ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা আইনিভাবে পুরসভার কাছে অতিরিক্ত কিছু দিন সময় চেয়ে আবেদন করতে পারেন।

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সিন্ডিকেট, কটাক্ষ বিরোধীদের

বিগত সরকারের জমানায় যে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থাকে ঘিরে ইডি-সিবিআই কেন্দ্রীয় স্তরে তদন্ত চালাচ্ছিল, নতুন সরকার আসতেই এবার রাজ্য ও পুর-প্রশাসন সেই সমস্ত সম্পত্তির পুর-অনুমোদনের ফাইল খোলায় প্রবল অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। একদিকে ফলতার ভোটযুদ্ধ থেকে বাহুবলী জাহাঙ্গির খানের পিছু হটে যাওয়া এবং অন্যদিকে কালীঘাটের এই ২১টি সম্পত্তির ওপর পুরসভার খাঁড়া নেমে আসা— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সাঁড়াশি চাপে ধসে পড়ছে ডায়মন্ড হারবার মডেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *