বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় বদল, জমা দিতে হবে পাসপোর্টের তথ্য!

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় বদল, জমা দিতে হবে পাসপোর্টের তথ্য!

ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। সোমবার রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের জন্য পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক। ‘সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ নামের এই নতুন নিয়মটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে।

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ১৮ নম্বর ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়মে বদল এনেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সিটিজেনশিপ রুলসের ‘শিডিউল আইসি’-তে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীদের স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে তাঁদের কাছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের দেওয়া কোনো বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রয়েছে কি না।

কঠোর নিয়মের বেড়াজাল

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ, স্থান এবং মেয়াদের শেষ তারিখসহ সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য বিস্তারিতভাবে ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। যাদের কাছে কোনো পাসপোর্ট নেই, তাদেরও বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তবে যাদের পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের আবেদনের সময় একটি বিশেষ অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে, ভারতীয় নাগরিকত্ব মঞ্জুর হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তারা সেই বিদেশি পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট ডাক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে দেবেন।

স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য প্রভাব

সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই নতুন সংশোধনী আনার মূল কারণ হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার গোটা আবেদন প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করা এবং আবেদনকারীদের নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত ও সহজতর করা। এর ফলে যেমন জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে, তেমনই আবেদনকারীদের প্রকৃত পরিচয় ও পূর্ববর্তী যাতায়াতের ইতিহাস স্পষ্টভাবে প্রশাসনের নজরে আসবে। তবে এই নিয়মের ফলে অনেক সাধারণ আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব আইনটি এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ সংশোধন করা হয়েছিল। তারও আগে ২০১৯ সালে পাস হওয়া মূল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) লক্ষ্য ছিল প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দিয়ে একটি সম্মানজনক জীবন দেওয়া। নতুন এই পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিধি চালুর ফলে পূর্ববর্তী সেই নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়ায় আরও বাড়তি প্রশাসনিক নজরদারি যুক্ত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *