বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কড়া নির্দেশ কলকাতা পৌরনিগমের, এবার স্ক্যানারে অভিষেকের বাড়ি

কলকাতায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পৌরনিগম। খোদ তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি এবার পুরনিগমের স্ক্যানারে। সম্প্রতি পৌরনিগমের আধিকারিকদের পরিদর্শনের পর হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাটের দুটি বাড়ির বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার জন্য কড়া নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই অবৈধ অংশ না ভাঙলে পুরনিগম নিজেই বুলডোজার দিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বাভাসের পর পরই গত দুদিন আগে কলকাতা পৌরনিগমের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নির্দিষ্ট এলাকায় পরিদর্শনে যান। সূত্রের খবর, পরিদর্শনের সময় হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাটের অপর একটি বাড়ির বেশ কিছু অংশে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে নতুন নির্মাণ এবং অতিরিক্ত অংশ জুড়ে দেওয়ার প্রমাণ মেলে। এর পরেই কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) আইনের ১৯৮০ সালের ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী দুটি পৃথক নোটিস জারি করা হয়।
নোটিসের আইনি ভিত্তি ও মালিকানা বিতর্ক
পৌরনিগমের নিয়মানুযায়ী, ১৮৮ A হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় নিজের নামে দেখাননি, বরং সেটিকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কো ম্পা নির সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে এই বাড়ির নোটিসটি সংশ্লিষ্ট কো ম্পা নির নামেই পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১২১ কালীঘাট রোডের যে বাড়ির নিচে ‘অভিষেক হার্ডওয়্যার’ দোকানটি অবস্থিত, সেটির মূল মালিকানা অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকায় নোটিসটি তাঁর নামে ইস্যু করা হয়েছে। আইন মোতাবেক, বেআইনি নির্মাণের ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস দেওয়ার পর শুনানির মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে এই ক্ষেত্রে আগামী সাত দিনের মধ্যে অবৈধ অংশ সরানোর জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে শহরের যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল পুরনিগম। রাজনৈতিক দিক থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সাথে, কলকাতা জুড়ে চলমান বেআইনি নির্মাণ ও পুর-আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পৌরনিগমের এই কঠোর অবস্থান আগামীদিনে অন্যান্য অবৈধ বহুতল বা ভবনের ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রশাসনিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করতে পারে।