বেসরকারি স্কুলের লাগামছাড়া ফি ও ঢালাও নম্বরে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, কড়া ব্যবস্থার ইঙ্গিত শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মনগড়া ফি কাঠামো এবং মূল্যায়নের অস্বচ্ছ পদ্ধতি নিয়ে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুল ও কলেজগুলির মাত্রাতিরিক্ত ফি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি, পড়ুয়াদের ঢালাও নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা ফেরাতে সরকার এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
লাগামছাড়া ফি ও আসাম প্রতিযোগিতা
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ফি বৃদ্ধি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যেভাবে ফি, সেমিস্টার ফি বা অন্যান্য উপায়ে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি চালানো উচিত। বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যাতে সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এবং সরকারকে বিব্রত হতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বেসরকারি স্কুলগুলির ফি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার নতুন কোনো গাইডলাইন বা কঠোর আইন আনতে চলেছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার বার্তা
আর্থিক শোষণের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পাসের হার এবং লটারির মতো নম্বর দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বেসরকারি স্তরে মূল্যায়নের উপযুক্ত মানদণ্ড বজায় না থাকায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। সঠিক মূল্যায়নের অভাবে সরকারি স্কুলের প্রকৃত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা এক আসাম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধা অনুযায়ী মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভর্তি ও পাস করানো সহজ করার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার। শিক্ষা মহলের মতে, ঢালাও নম্বর দেওয়ার সংস্কৃতিতে রাশ টেনে মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা দপ্তর শীঘ্রই নতুন নিয়মাবলি জারি করতে পারে।