আমেরিকায় ধর্মীয় বিদ্বেষের চরম বহিঃপ্রকাশ, মসজিদে ২ কিশোরের হামলায় রক্তাক্ত ক্যালিফোর্নিয়া!

আমেরিকায় ধর্মীয় বিদ্বেষের জেরে ফের এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগোর একটি মসজিদে দুই কিশোরের অতর্কিত হামলায় বন্দুকবাজ-সহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, চরম ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণার বশবর্তী হয়েই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সোমবার বিকেলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশ জুড়ে।
পরিকল্পিত হামলা ও রক্তক্ষয়ী পরিণতি
সান দিয়াগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত শহরের অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক সেন্টারে সোমবার বিকেলে যখন পবিত্র নমাজের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালায় দুই কিশোর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা নিজেদের বাড়ি থেকে বন্দুক চুরি করে রীতিমতো পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালিয়েছিল। মসজিদের সামনে জড়ো হওয়া ভিড় লক্ষ্য করে তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের মিশন শেষে দুই বন্দুকবাজ নিজেদের গুলিতেই আত্মঘাতী হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী হওয়ার কারণে তাদের তরফ থেকে কোনো গুলি চালাতে হয়নি।
প্রশাসনের তৎপরতা ও পূর্ব সতর্কবার্তা
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ১৭ বছর বয়সী এক হামলাকারীর মা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে চরম আত্মহত্যাপ্রবণ এবং বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে। এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই কিশোরের স্কুলে তল্লাশি চালাতে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, দুই হামলাকারী ততক্ষণে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দেয়। ফলে পুলিশ সতর্কবার্তা পেয়েও এই ভয়াবহ রক্তপাত রুখতে ব্যর্থ হয়।
তীব্র নিন্দা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
এই নৃশংস ঘটনার পর আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘৃণার কোনো স্থান নেই এবং প্রশাসন সান দিয়েগোর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিশোর বয়সের ছেলেদের মধ্যে এই ধরনের চরমপন্থী মানসিকতা এবং সহজে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেয়ে যাওয়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বড়সড় অ্যালার্ম বেল। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে দেশটিতে গান কন্ট্রোল বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলো।