ইউরোপ সফরে প্রশ্নের মুখে ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, কড়া জবাব নয়াদিল্লির

ইউরোপ সফরে প্রশ্নের মুখে ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, কড়া জবাব নয়াদিল্লির

ইউরোপ সফরের শুরু থেকেই ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নেদারল্যান্ডসের পর নরওয়ে সফরেও এই একই ইস্যু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিরিখে প্রথম সারিতে থাকা এই দুই দেশেই ভারতীয় গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওঠা এই সমালোচনার বিরুদ্ধে বরাবরের মতোই কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিষয়টিকে ‘জ্ঞানের অভাব’ এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক এনজিওর রিপোর্ট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

ইউরোপীয় নেতৃত্বের উদ্বেগ এবং সূচকের চাপ

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ (আরএসএফ)-এর বার্ষিক রিপোর্টে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৫৭ নম্বরে নেমে গেছে। কাকতালীয়ভাবে, এই তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে নরওয়ে এবং দ্বিতীয় স্থানে নেদারল্যান্ডস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর আগেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন স্পষ্ট জানান যে, ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ডাচ সরকার গভীরভাবে চিন্তিত এবং এই বিষয়ে নয়াদিল্লিকে অতীতেও সতর্ক করা হয়েছে। নরওয়েতে পৌঁছানোর পর খোদ প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যদিও তিনি নিজে এর কোনো উত্তর দেননি।

নয়াদিল্লির পালটা যুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিদেশি সাংবাদিকদের এই ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে আসরে নামে বিদেশমন্ত্রক। অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের বিশেষ সচিব সিবি জর্জ সাফ জানান, এই ধরনের প্রশ্ন মূলত কিছু মূল্যহীন ও অপ্রাসঙ্গিক এনজিওর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যার কোনো মিল নেই। ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিপুল ব্যাপ্তি এবং সাংবিধানিক সমানাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি নিউজ চ্যানেল স্বাধীনভাবে কাজ করছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের এই সমালোচনার পেছনে সঠিক তথ্যের অভাব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো আগামী দিনে আরও বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতের এই অনড় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি চাপ বা নেতিবাচক সূচককে নয়াদিল্লি সহজে মেনে নেবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *