ভিডিও ফাঁসের হুমকি ও লাগাতার নিগ্রহের জেরে প্রাণ হারালেন পিএইচডি পড়ুয়া তরুণী!

ভিডিও ফাঁসের হুমকি ও লাগাতার নিগ্রহের জেরে প্রাণ হারালেন পিএইচডি পড়ুয়া তরুণী!

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এক ২৫ বছর বয়সী পিএইচডি পড়ুয়া তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদক খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের লাগাতার হুমকি দিয়ে ওই তরুণীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিশ্বাসঘাতকতা ও ব্ল্যাকমেলের নীল নকশা

ঘটনার সূত্রপাত তরুণীর এক বান্ধবীর দাদা যোগেশ রাওয়াত নামের এক যুবকের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে। বন্ধুত্ব গভীর হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত যুবক তরুণীকে একটি হোটেলে ডেকে পাঠায় এবং পানীয়ের সাথে মাদক মিশিয়ে দেয়। তরুণী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই মুহূর্তের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। কিন্তু এর মাত্র দুদিনের মাথায়, ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সামাজিক গ্লানি ও চরম পরিণতি

লাগাতার এই নির্যাতনের এক মাস পর ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তরুণী বাড়ি ফিরে এলে অভিযুক্ত যুবক সম্পূর্ণ উদাসীনতা দেখায়। উল্টো অভিযুক্তের দুই বোন—যাঁদের একজন নির্যাতিতার বান্ধবী—তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাকে তীব্র ভাষায় অপমান করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। লোকলজ্জা ও লাগাতার হুমকির মুখে পড়ে গত ১৪ মে থানায় একটি ডায়েরি করেন নির্যাতিতা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক গ্লানি সহ্য করতে না পেরে নিজের ভাইয়ের বাড়ি থেকে আত্মহননের পথ বেছে নেন এই মেধাবী ছাত্রী। পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার পেছনে থাকা বাকিদের ভূমিকা ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *