চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে সিবিআইয়ের জালে আরও এক, গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই উত্তরপ্রদেশের!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। মঙ্গলবার রাতে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে বিনয় রাই নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। এই নিয়ে হাইপ্রোফাইল এই খুনের মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ধৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, যা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য সুপারি কিলার চক্রের সক্রিয়তার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
মধ্যমগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী রাত ও তদন্তের মোড়
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়কের এবং গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়িচালক। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশ দ্রুত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে, যার দায়িত্বে ছিলেন সিআইডির শীর্ষ আধিকারিকরা।
প্রাথমিক তদন্তে নেমে সিটের আধিকারিকরা উত্তরপ্রদেশ এবং বক্সার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন, যাদের মধ্যে একজন পেশাদার শার্প শুটার ছিল। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিটের হাতে ধরা পড়া তিন অভিযুক্তকে দফায় দফায় জেরা করেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই চক্রের অন্য পান্ডাদের হদিশ পান। সেই সূত্র ধরেই গত সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর থেকে পেশাদার শুটার রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। রাজকুমার উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটে খুনি হিসেবে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত।
নেপথ্যে সুপারি কিলার চক্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজকুমারকে জেরা করার পর উত্তরপ্রদেশ জুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে সিবিআই। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে মঙ্গলবার রাতে বারাণসী থেকে গ্রেপ্তার হয় বিনয় রাই। তদন্তকারীদের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ভিন রাজ্যে বসেই তৈরি করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তথ্য সরবরাহ এবং উত্তরপ্রদেশের পেশাদার শুটারদের ব্যবহার করে এই অপারেশন চালানো হয়।
রাজ্যের এক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রাক্তন আপ্তসহায়কের ওপর এমন সুপরিকল্পিত হামলা এবং তাতে ভিন রাজ্যের অপরাধীদের সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়টি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একের পর এক ভিন রাজ্যের শার্প শুটার গ্রেপ্তারের পর, এই খুনের নেপথ্যে থাকা আসল ষড়যন্ত্রকারী বা মূল চক্রী কে, তা উদঘাটন করাই এখন সিবিআইয়ের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে, এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয় এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।