চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে এক আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নগরের খুলশি এলাকায় অবস্থিত সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নিহত আধিকারিকের নাম নরেন্দ্র (৩৫)। তিনি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে ‘সিকিউরিটি প্রোটোকল অফিসার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবার নাম রাম নিবাস।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
সহকারী হাইকমিশন সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্র নিজের ঘরের দরজা খুলছিলেন না এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে থাকা অন্য আধিকারিকেরা প্রথমে নিজস্ব উদ্যোগে দরজা খোলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতরে ঢোকা সম্ভব না হওয়ায় এবং কোনো সাড়া না মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাইকমিশনের ওই কক্ষ থেকে নরেন্দ্রর নিথর দেহ উদ্ধার করে।
কারণ অনুসন্ধান ও কূটনৈতিক প্রভাব
এই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, সুরতহাল ও প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশ এটিকে আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছে এবং এই সংক্রান্ত একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একজন সিকিউরিটি প্রোটোকল অফিসারের এমন রহস্যজনক মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। যেহেতু ঘটনাটি একটি বিদেশি দূতাবাসের অভ্যন্তরে ঘটেছে, তাই এর পেছনে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি, ব্যক্তিগত বিষণ্ণতা নাকি অন্য কোনো বাহ্যিক কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।