গ্রেফতারির চরম আশঙ্কা, আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে এবার হাইকোর্টে তৃণমূলের দুই দাপুটে নেতা!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও প্রার্থীদের ওপর আইনি চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলতার জাহাঙ্গির খানের পর এবার গ্রেফতারি এড়াতে ও আইনি সুরক্ষার খোঁজে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের আরও দুই প্রভাবশালী নেতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস এবং হাওড়ার বালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র— দুজনেই তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলা ও এফআইআর থেকে নিষ্কৃতি পেতে উচ্চ আদালতের কড়া নেড়েছেন।
আইনি সুরক্ষার খোঁজে পরেশরাম ও কৈলাশ
ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক থানায় একের পর এক এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতারি বা কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। তাঁর দায়ের করা আবেদনের মূল উদ্দেশ্য, এই সমস্ত এফআইআর থেকে নিজের নাম সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া এবং আদালতের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি রক্ষাকবচ আদায় করা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট পরেশরাম দাসকে এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার অনুমোদন দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় একই ধরনের আইনি সংকটে পড়ে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন হাওড়ার বালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র। বালির এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আইনি ফাঁসের গতিপ্রকৃতি আঁচ করতে পেরেই তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এফআইআর থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। কৈলাশ মিশ্রের এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি মঞ্জুর করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবারই এই মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রেফতারির হিড়িক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ
তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, সাধারণ মানুষকে হুমকি, মারধর এবং এমনকি গভীর রাতে পথচলতি গাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা তৈরি করার মতো নানাবিধ গুরুতর অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ব্যক্তিরা গণহারে গ্রেফতার হতে শুরু করেছেন। গত দুই দিন ধরে রাজ্যের চার প্রান্তে যেভাবে একের পর এক গ্রেফতারি ও পুলিশি অ্যাকশনের ঘটনা ঘটছে, তাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
জোড়াফুল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই নতুন সরকারের পুলিশ বেছে বেছে তাঁদের দলের নেতাদের টার্গেট করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর এবং পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা রাজ্যের বিরোধী শিবিরের ওপর বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক চাপ তৈরি করছে, যার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে।