চল্লিশের পর হরমোন থেরাপি নয়, জিম বলের ম্যাজিকেই সুস্থ থাকবে মহিলাদের শরীর!

চল্লিশের পর হরমোন থেরাপি নয়, জিম বলের ম্যাজিকেই সুস্থ থাকবে মহিলাদের শরীর!

জীবনের মধ্যগগনে এসে যখন মহিলারা একটু থিতু হতে চান, ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ে রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজের সমস্যা। এই সময়ে হরমোনের তীব্র ওঠানামার কারণে মেজাজ বিগড়ে যাওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধির মতো একাধিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। এই ধাক্কা সামলাতে অনেক মহিলাই বর্তমানে হরমোন থেরাপির পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, চল্লিশের পর কৃত্রিম কোনো থেরাপি নয়, বরং জিম বলের নিয়মিত কসরতেই হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। রজোনিবৃত্তির ঝক্কি সামলে শরীরকে সম্পূর্ণ ফিট রাখতে এই সহজলভ্য ফিটনেস সরঞ্জামটি দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভারসাম্য ও পেশির জোর বাড়ানোর আসল চাবিকাঠি

জিম বল বা এক্সারসাইজ বলের মূল কাজ হলো শরীরের ভারসাম্য বা ব্যালান্স রক্ষা করা এবং পেশির শক্তি বৃদ্ধি করা। তবে এটি দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, এর ওপর শরীর ধরে রেখে ব্যায়াম করা কিন্তু ততটাই কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। মূলত স্ট্রেচিং এবং কোর মাসলের শক্তি বাড়াতে এটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মেনোপজের ধকল সামলাতে এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ করতে মহিলাদের জন্য বিশেষ কয়েকটি জিম বল ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন।

হরমোনের সমতা ও মেদ ঝরাতে বল স্কোয়াট

দেওয়ালে জিম বলটিকে পিঠ দিয়ে চেপে ধরে রেখে ধীরে ধীরে চেয়ারে বসার ভঙ্গিতে নীচে নামতে হয়। এই অবস্থায় ১০ সেকেন্ড থেকে আবার বলটিকে ঠেলে উপরে উঠতে হবে। এভাবে ১০-১২ বার এই ব্যায়াম করলে থাইরয়েড গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি মহিলাদের পেট, ঊরু ও নিতম্বের অতিরিক্ত মেদ দ্রুত কমে যায়।

হট ফ্লাশ ও ঋতুস্রাবের কষ্ট দূর করবে পেলভিক ক্লক

জিম বলের ওপর সোজা হয়ে বসে কোমর ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীতে বৃত্তাকারে ঘোরানো এবং হালকাভাবে বাউন্স করা অত্যন্ত উপকারী। এই প্রক্রিয়ায় পেলভিক অঞ্চলের রক্ত সঞ্চালন বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে রজোনিবৃত্তি পর্বেও শারীরিক অস্বস্তি এবং হট ফ্লাশের মতো কষ্টদায়ক সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

শরীরের ভারসাম্য ও হাড়ের সুরক্ষায় হ্যামস্ট্রিং কার্ল ও বল পাস

চিত হয়ে শুয়ে পা দিয়ে বলটিকে টেনে আনা এবং আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার নামই হ্যামস্ট্রিং কার্ল। এটি অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, হাত থেকে পায়ে এবং পা থেকে হাতে বল পাস করার ক্রাঞ্চেস ব্যায়ামটি সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে। এটি নিয়মিত করলে বাতের ব্যথা কমে এবং সামগ্রিক ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রজোনিবৃত্তির কারণে মহিলাদের শরীরে যে হরমোনজনিত বিপর্যয় ঘটে, তা মূলত সঠিক শারীরিক সক্রিয়তার অভাবে আরও জটিল রূপ নেয়। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত জিম বলের এই কসরতগুলো হরমোনের প্রাকৃতিক নিঃসরণ স্বাভাবিক রাখতে উদ্দীপনা জোগায়। ফলে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত থেরাপি ছাড়াই মহিলারা সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবন বজায় রাখতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *