কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক ৩০০০ টাকা! কড়া নিয়ম বেঁধে দিল সরকার

রাজ্যের বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের কাছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প বর্তমানে একটি বড় আর্থিক সহায়তার মাধ্যম। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অনুদান সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে রাজ্য সরকার বেশ কিছু নতুন ও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে বহু আবেদনকারী এবং বর্তমান সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
কারা বাদ পড়ছেন সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত অর্থেই যাঁদের এই সহায়তার প্রয়োজন, তাঁদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসন কিছু স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত পরিবারে কোনও সদস্য কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সরকারি চাকুরীজীবী পরিবারগুলিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যে সকল পরিবার নিয়মিত আয়কর প্রদান করে কিংবা আয়কর রিটার্ন জমা দেয়, তাদেরও এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ভুল তথ্য ও কারিগরি ত্রুটির জেরে বড় বিপত্তি
আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এখন সমস্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা হচ্ছে। আবেদনের সময় কোনও ধরনের ভুল তথ্য, ভুয়ো নথি বা আয়ের প্রকৃত উৎস গোপন করার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আবেদনটি সরাসরি বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জালিয়াতি করে টাকা তুললে ইতিমধ্যে পাওয়া অর্থও ফেরত দিতে হতে পারে।
এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঠিক সংযুক্তি বা কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না থাকার কারণে টাকা আটকে যাচ্ছে। নিষ্ক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কারণেও অনেকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মূলত অপচয় রুখে প্রকৃত অভাবী মহিলাদের হাতে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই প্রশাসনের এই কড়াকড়ি, যা সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়াতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।