করোনার পর এবার বিশ্বজুড়ে নতুন ত্রাস সৃষ্টি করছে ইবোলা!

করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে বিশ্ব যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, ঠিক তখনই আফ্রিকার কঙ্গো ও উগান্ডার গহীন জঙ্গল থেকে নিঃশব্দে থাবা বাড়াচ্ছে আরেক মারণ ভাইরাস ‘ইবোলা’। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ স্তরের বৈশ্বিক ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চিকিৎসকরা এই ভাইরাসকে একটি জীবন্ত বিভীষিকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
উপসর্গ ও ভয়াবহতা
ইবোলা ভাইরাসটি শুরুতে অত্যন্ত সাধারণ জ্বরের বেশে মানবশরীরে প্রবেশ করে। তবে প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশের পর এটি দ্রুত তার মারাত্মক রূপ ধারণ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ, নাক এবং চামড়ার নিচে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে রোগীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে একে বিকল হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে। বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির এই যুগে দাঁড়িয়েও নির্মম সত্য হলো, এখন পর্যন্ত ইবোলার সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি।
সংক্রমণের ধরন ও ঝুঁকি
ভীতি জাগালেও স্বস্তির বিষয় হলো, ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের ধরন করোনার মতো নয়; এটি বাতাসে ছড়ায় না। মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, চোখের জল বা অন্য কোনো শারীরিক তরলের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসলে এই মারণব্যাধি ছড়ায়। তবে আন্তর্জাতিক যাতায়াতের কারণে ভারতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে এই ভাইরাস যেকোনো সময় সীমানা পেরিয়ে চলে আসতে পারে। ভারতের মতো উচ্চ জনসংখ্যার দেশে একবার এর সংক্রমণ ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিরোধ ও সতর্কতা
ইবোলা ভাইরাসের মূল উৎস বন্যপ্রাণী ও বাদুড়, তাই বন্য পশুপাখি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই মুহূর্তে ওষুধ বা মাস্কের জন্য আতঙ্কিত না হয়ে, নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে অন্যের ব্যবহৃত খাবার বা পাত্র এড়িয়ে চলা আবশ্যক। মহামারি প্রতিরোধে ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়ানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব ও আতঙ্ক থেকে দূরে থাকা এবং সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।