চাপের মুখে কি মাঠ ছাড়লেন ‘পুষ্পা’, ফলতার ভোটযুদ্ধ থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোয় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এক সময়ের ফলতার বেতাজ বাদশা এবং বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতার শেষ মুহূর্তে ভোট ময়দান ও রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা শাসক-বিরোধী তরজাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর অস্বস্তি ঢাকতে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি।
তৃণমূলের দাবি ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ
জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, ফলতার পুনির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে দলের কোনো যোগসূত্র নেই। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি কাজ করেছে বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের অভিযোগ, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ১০০-র বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখল করার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিজেপি যে ভীতিপ্রদর্শন করছে, তার জেরেই চাপের মুখে পড়ে জাহাঙ্গির খান মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভোলবদল ও শুভেন্দু অধিকারীর প্যাকেজ তত্ত্ব
ভোটের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির জবাবে জাহাঙ্গির খান নিজেকে ‘পুষ্পা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, তিনি কিছুতেই মাথা নত করবেন না। অথচ সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়ে ২১ তারিখের পুনির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির খান স্পষ্ট জানান, তিনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং ‘সোনার ফলতা’ গড়তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি নিজেকে ভোট ও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এই সিদ্ধান্ত দলের চাপে নাকি ব্যক্তিগত, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও শাসক-বিরোধী তরজা
জাহাঙ্গির খানের মতো দাপুটে নেতার আচমকা সরে দাঁড়ানো ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের আশ্বাস পেয়ে ‘পুষ্পা’ গাছে উঠলেও এখন মই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটে দাঁড়ালেও বুথে এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক পাওয়া যেত না বলেই জাহাঙ্গির সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রশাসন ও বিরোধী শিবিরের দ্বিমুখী চাপের মুখে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো আগামী দিনের পুনির্বাচনী ফলাফলে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।