ক্ষমতা বদল হতেই বঙ্গে জোরদার ধড়পাকড়, রাজ্যজুড়ে শ্রীঘরে একাধিক দাপুটে তৃণমূল নেতা

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত করতে মরিয়া নতুন সরকার। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন দাপুটে তৃণমূল নেতাকে। নতুন প্রশাসনের এই ‘দাবাং’ অ্যাকশনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ জুড়েই চলছে পুলিশের বড়সড় অভিযান
গ্রেফতারির তালিকায় রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নেতা নারায়ণ চন্দ্র কর। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা ও এলাকায় গুন্ডামির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ তথা হাবড়ার প্রভাবশালী নেতা তারক দে-কে এক টোটো চালককে হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগে বারাসাতের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে তোলার সময় থানা চত্বরেই তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায়।
একই ছবি দেখা গেছে পূর্ব বর্ধমান ও দুর্গাপুরেও। তোলাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে শক্তিগড় থানার পুলিশ বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি পরমেশ্বর কোনার এবং কুড়মুন ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাসুদেব দে-কে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি অন্ডালের ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রামচরিত পাশওয়ান গ্রেফতার হয়েছেন লুঠ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে। এছাড়া, দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে কনস্টেবলের চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মফিজদ্দিন মিঞা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও ধৃত নেতার দাবি এটি রাজনৈতিক চক্রান্ত।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পূর্ববর্তী সরকারের আমলের একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই প্রথম সারির ও স্থানীয় নেতাদের গ্রেফতারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, অপরাধমূলক কাজে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই ধড়পাকড়ের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরতে পারে, অন্যদিকে গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তরে প্রধান বিরোধী দলনেতাদের গ্রেফতারিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।