ভার্চুয়াল দুনিয়াকে বিদায় জানালেন রিয়া চক্রবর্তী, অতীত ঝড়ের রেশ নাকি মানসিক শান্তি খোঁজার মরিয়া চেষ্টা!

বলিউডের গ্ল্যামার ও আলোর ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্লান্তি ও অবসাদের গল্প আরও একবার প্রকাশ্যে এল। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র সামাজিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাওয়া অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী আচমকাই সোশাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর শেয়ার করা একটি রহস্যময় ও আবেগঘন পোস্টের পর থেকেই নেটিজেন এবং তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও কৌতুহল।
অবিরাম কোলাহল থেকে মুক্তির খোঁজ
রিয়া চক্রবর্তীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কাজ করেছে ভার্চুয়াল দুনিয়ার তীব্র মানসিক চাপ। সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে নিখুঁত প্রমাণ করার ইঁদুরদৌড় এবং অনবরত স্ক্রল করার ক্লান্তি অভিনেত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নিজের পোস্টে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, চারপাশের এই অবিরাম আওয়াজ তাঁর জন্য দমবন্ধকর হয়ে উঠেছিল। ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করার তাগিদ ভুলে নিভৃতে, শান্তিতে নিজের মতো করে বাস্তব জীবন উপভোগ করতেই তিনি এই সাময়িক অন্তর্ধানে যাচ্ছেন।
অতীতের ঝড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২০ সালে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর রিয়ার জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। মাদক মামলায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) হাতে গ্রেফতারি, জেলজীবন এবং দেশজুড়ে চলা তীব্র মিডিয়া ট্রায়ালের ধকল তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়িয়েছে। মনোবিদদের মতে, দীর্ঘদিনের ট্রমা এবং ভার্চুয়াল জগতের নেতিবাচকতা অনেক সময় মানুষকে চরম মানসিক ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়। রিয়ার এই সোশাল মিডিয়া বর্জন মূলত সেই মানসিক ক্ষত নিরাময় এবং থেরাপির একটি অংশ হতে পারে। এর ফলে তিনি যেমন লাইমলাইটের বাইরে গিয়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার করতে পারবেন, তেমনই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিনোদন জগতে তাঁর পেশাদার যোগাযোগে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।