অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিস, ফিরহাদের ওপর ক্ষুব্ধ মমতা

নিজের দলের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা পুরনিগম থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানো এবং সেই খবর আগে থেকে জানতে না পারা নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুরসভার ক্ষমতায় থেকেও এই ধরনের স্পর্শকাতর তথ্যের আগাম খোঁজ না মেলায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতৃত্ব। এর আগে তিলজলায় বুলডোজার চালানো সংক্রান্ত বিতর্কেও মেয়রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা এই নতুন বিতর্কে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
কাঠগড়ায় ৯ নম্বর বরো ও চেয়ারপার্সনের পদত্যাগ
তৃণমূল সূত্রের খবর, বিতর্কিত এই নোটিসটি ইস্যু করা হয়েছিল কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বরো অফিস থেকে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বরো চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের দায়িত্বজ্ঞান ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দলীয় সুপ্রিমো। নোটিস বিতর্কের জেরে দিনভর শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ফোন এবং চাপের মুখে পড়েন বরো চেয়ারপার্সন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা হলে অপমানিত বোধ করে শেষ পর্যন্ত নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন দেবলীনা বিশ্বাস। তবে পদত্যাগের পর তিনি দাবি করেন, নোটিস পাঠানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিল্ডিং বিভাগের এক্তিয়ারভুক্ত এবং এর পেছনে চেয়ারপার্সনের কোনো ভূমিকা থাকে না। একইসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, কর্পোরেট স্টাইলে দল চালানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও অস্থিরতা
এই ঘটনার ফলে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুরনিগমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা মেয়রের অজান্তে নেওয়া হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগের বড়সড় ফাঁক প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার জেরে একদিকে যেমন দলের অন্দরে ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান কিছুটা কোণঠাসা হতে পারে, অন্যদিকে দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগ ও তাঁর মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসনিক রদবদল এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।