কাগুজে জয় নাকি দিবাস্বপ্ন, অস্তিত্বহীন দুই ভারতীয় এয়ারবেস ধ্বংসের আজব দাবি পাকিস্তানের

কাগুজে জয় নাকি দিবাস্বপ্ন, অস্তিত্বহীন দুই ভারতীয় এয়ারবেস ধ্বংসের আজব দাবি পাকিস্তানের

ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে এবার এক অদ্ভুত দাবি করে হাসির খোরাক জোগাল ইসলামাবাদ। পহেলগাঁও হামলা এবং ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তজুড়ে ড্রোন ও মিসাইল হামলার পাল্টাপাল্টি খবরের মাঝেই পাকিস্তানের এক সেনা কর্মকর্তার সামরিক সাফল্যের অবাস্তব দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বাস্তবতা বনাম পাকিস্তানের কাল্পনিক দাবি

সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা মুনিব জামালকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দাবি করতে দেখা যায়, গত ১০ মে ভারতের দুটি বড় এয়ারবেস বা বিমানঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ শুরু করেছিল, যার অধীনে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট সীমান্তে ফতেহ-১ আর্টিলারি রকেট দিয়ে হামলা চালানো হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিটি হামলাই দক্ষতার সঙ্গে রুখে দিলেও, পাক সেনা কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী তারা সফলভাবে ভারতের ‘রাজৌরি’ এবং ‘মামুন’ এয়ারবেস গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, এই দাবির পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরিতে ভারতীয় বায়ুসেনার কোনো এয়ারবেস বা বিমানঘাঁটিই নেই। অন্যদিকে, পাঞ্জাবের পাঠানকোটে অবস্থিত মামুন মূলত একটি মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট বা সেনা ছাউনি, কোনো এয়ারবেস নয়। ফলে বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করে নিজেদের সামরিক অপপ্রচারের ফাঁদেই পা দিয়েছে পাকিস্তান।

প্রোপাগান্ডার নেপথ্য কারণ ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে ভারতের কঠোর প্রতিরোধ এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সামনে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান এমন মনগড়া তত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে জনমনে সেনাপ্রধান বা সামরিক শক্তির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কৃত্রিম জয়ের আমেজ তৈরি করতে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়ে থাকে।

তবে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পাকিস্তানের এই মিথ্যাচার মুহূর্তেই ফাঁস হয়ে গেছে। ভারতের কোনো ক্ষতি করা তো দূর, উল্টো আন্তর্জাতিক মহলে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ট্রোল এবং হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, আধুনিক সমরে কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়, মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যযুদ্ধেও নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে ফেলেছে ইসলামাবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *