‘আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ঙ্কর’— পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা

‘আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ঙ্কর’— পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় গোটা রাজ্য। এই আবহে মাদ্রাসার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষা মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, গত এক দশকে বাংলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়ঙ্কর। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পরিচালন কমিটির মাধ্যমে হওয়া নিয়োগের বৈধতা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

নিয়ম লঙ্ঘন ও আদালতের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, নির্দিষ্ট মাদ্রাসা রুল মেনে পরিচালন কমিটিগুলো গঠনই করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন অকার্যকর থাকলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে এই নিয়োগ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ‘ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ’-এর মাধ্যমে যেভাবে ঢালাও নিয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেছে আদালত। শুনানিতে বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, রাজ্যের হাজারো মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি নিজেদের মতো লোক নিয়োগ করবে আর রাজ্য সরকার জনগণের তহবিল থেকে তাদের বেতন মেটাবে, এমনটা হতে পারে না। নিয়োগকারীদের যোগ্যতা এবং এই প্রক্রিয়ায় সরকারের আদৌ কোনো অনুমতি ছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।

প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি

আদালতের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বিগত দিনে মাদ্রাসায় হওয়া বিপুল সংখ্যক নিয়োগের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। যদি প্রমাণিত হয় যে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো হয়েছিল, তবে পূর্বেকার এসএসসি মামলার মতোই এখানেও হাজার হাজার শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই মামলার জল কতদূর গড়ায় এবং সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত কী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কয়েক হাজার কর্মপ্রার্থীর ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *