পুরনিগমের স্ক্যানারে অভিষেকের সম্পত্তি, মেয়রের অজান্তে নোটিস ঘিরে তীব্র শোরগোল!

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিষেকের কো ম্পা নি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক সম্পত্তির নথি চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভা। তবে এই গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ে পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন বলে দাবি করেছেন, যা এই ঘটনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মেয়রের সাফাই ও পুরনিগমের পদক্ষেপ
কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতলসহ মোট ২১টি সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। মূলত ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাই করতেই বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০০(১) ধারায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুরনিগম সূত্রে খবর। তবে এই বিষয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আলোচনা না করেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। মেয়রের যুক্তি, কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙা হবে বা বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেয়র স্থির করেন না; পদাধিকার বলে এটি করার এক্তিয়ার রয়েছে পুর কমিশনারের।
রাজনৈতিক চাপ এবং নোটিসের উৎস
সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক তোপ দাগেন। কলকাতা কর্পোরেশন থেকে আনা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, কলকাতায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এই রাজনৈতিক তরজার পরপরই পুরনিগমের পক্ষ থেকে এই আইনি নোটিস পাঠানো হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নামের পরিবর্তে তাঁর কো ম্পা নি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে নোটিস দেওয়ার পেছনে একটি আইনি দিক রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের হলফনামায় অভিষেক নিজের ঠিকানা হিসেবে তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি যে বাড়ি বা অফিসে যাতায়াত করেন, সেগুলি তাঁর কো ম্পা নির নামে নথিভুক্ত এবং তিনি নিজেই সেই কো ম্পা নির কর্ণধার। ফলে আইনি জটিলতা এড়াতেই সরাসরি কো ম্পা নিকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে পুর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে সংঘাত আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।