ক্ষমা পাবে না ১০ পয়সার দুর্নীতিও, পুরসভায় ফের প্রশাসক নিয়োগের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

ক্ষমা পাবে না ১০ পয়সার দুর্নীতিও, পুরসভায় ফের প্রশাসক নিয়োগের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল সম্পন্ন হতেই পুর প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটাল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুরসভার কাজে ১০ পয়সার দুর্নীতিও কোনোভাবে রেয়াত করা হবে না। একদিকে রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নতুন করে প্রশাসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি এবং অন্যদিকে নবনির্বাচিত বিধায়কের কড়া হুঁশিয়ারি— এই দুই জোড়া পদক্ষেপে এই মুহূর্তে তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

চার পুরসভায় এসডিও-দের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা

রাজ্যের চার পুরসভায় নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এর মাঝেই সোমবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন, ১৯৯৩–এর ১৪ নম্বর ধারার উপধারা (৪) অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের চারটি পুর এলাকায় নতুন বোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মহকুমাশাসকদের (এসডিও) হাতে সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কার্শিয়াং পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন কার্শিয়াংয়ের মহকুমাশাসক। মিরিক নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিরিকের এসডিও-কে। একইভাবে কালিম্পং পুরসভার প্রশাসক হচ্ছেন কালিম্পংয়ের মহকুমাশাসক এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবেন গঙ্গারামপুরের মহকুমাশাসক। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত বোর্ডের অনুপস্থিতিতে এই প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

প্রশাসনিক এই রদবদলের সমান্তরালে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া পুরসভায় দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক দৃশ্যপট। হাবড়া কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে আসা নতুন বিধায়ক দেবদাস মন্ডল কাউন্সিলর ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুরসভায় কোনো ধরনের বেনিয়ম বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। ১০ পয়সার দুর্নীতি করলেও অভিযুক্তকে জেলে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুরসভার বিভিন্ন দফতরের বিগত দিনের কাজকর্মের তদন্ত করানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিধায়ক ও পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মেনে নিয়েছেন পুরপ্রধানও।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সামগ্রিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ বদল। সরকারের দাবি, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পুরসভাগুলির প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতেই মহকুমাশাসকদের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন পুরভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হলো, অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়ে প্রশাসন নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নতুন বিধায়কদের এই সক্রিয়তা আগামী দিনে পুরসভাগুলির আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আমজনতার নাগরিক পরিষেবার ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *