ভোটের মুখে তৃণমূল প্রার্থীর রহস্যজনক ‘আত্মসমর্পণ’, জাহাঙ্গিরকে সাসপেন্ডের দাবিতে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ!

ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। শুধু ভোটের ময়দান ছাড়া নয়, সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই প্রার্থীর এমন নাটকীয় পদক্ষেপে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনায় জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবিতে সরব হয়েছেন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ।
মমতার বৈঠকে বিধায়কদের ক্ষোভ
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার দলীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে ফলতার প্রসঙ্গ উঠতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে জাহাঙ্গিরের অন্তত একবার অভিষেকের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। দলীয় নেত্রীর এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভের পারদ আরও চড়ে। বিধায়কদের একাংশ এটিকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন এবং অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও জাহাঙ্গিরকে কেন রেয়াত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।
বিজেপির ওয়াকওভার ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ছবি ‘পুষ্পা’-র কায়দায় ‘ঝুঁকেগা নেহি’ সংলাপ আউড়ে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন ও আইপিএস অফিসারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। কিন্তু ভোটের মুখে তাঁর এই রহস্যজনক পিছু হঠার কারণে ফলতায় কার্যত বিনা যুদ্ধে জয় পেতে চলেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ২৯৩ আসনের ঘোষিত ফলাফলে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ফলতায় তৃণমূলের এই আকস্মিক আত্মসমর্পণের জেরে গেরুয়া শিবিরের আসন সংখ্যা ২০৮ হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই ঘটনা একদিকে যেমন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমন্বয়হীনতাকে প্রকাশ করে দিল, অন্যদিকে তেমনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো শক্ত ঘাঁটিতে শাসক দলকে বড়সড় ধাক্কার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।