ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা, নয়া গাইডলাইনে তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্যের অন্যতম জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বড়সড় আপডেট সামনে এল। এবার থেকে এই প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩০০০ টাকা পেতে গেলে উপভোক্তাদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা এবং এসআইআর (SIR) লিস্টে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সংক্রান্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে অনুমোদন মেলার পর নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরকারের এই নয়া গাইডলাইনের কথা স্পষ্ট করেছেন। আগামী ১ জুন থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া শুরু হবে বলে প্রশাসনিক স্তরে তোড়জোড় চলছে।
কড়া যাচাই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও প্রভাব
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়া করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা এবং ভুয়ো আবেদন বা ডুপ্লিকেট সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এখন থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে পরিচয়পত্র এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই কিংবা তথ্য আপডেট করা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ভোটার কার্ড বা তালিকায় নাম না থাকলেই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, তা নিয়ে এখনও সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। মূলত নথির সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এদিকে এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, কারণ অনেকেই এখনও ভোটার তালিকা সংশোধন বা পরিচয়পত্র আপডেট সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। প্রশাসনিক ভুলের কারণে যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত না হন, বিশেষজ্ঞরা সেদিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নাম নিয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে তাঁদের নিয়ে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বাদ পড়েছে। এই বিষয়ে আশ্বস্ত করে নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাদ পড়া প্রায় ৯১ লক্ষ নাম নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন অথবা সিএএ (CAA)-র জন্য আবেদন জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে থাকবেন। বর্তমানে সরকারি দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে তাঁদের ভোটার কার্ড ও পরিচয়পত্রের তথ্য দ্রুত আপডেট এবং যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।