মোদীর আর্জির পর হানিমুন প্ল্যান বদলাচ্ছেন দম্পতিরা! ভারতে লুকিয়ে আছে এই ‘বিদেশ’

“দেশ ঘুরুন, দেশের টাকা দেশেই রাখুন”— প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ আর্জির পর ভারতের পর্যটন খাতে এক নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নবদম্পতিদের মধ্যে মধুচন্দ্রিমার বা হানিমুনের পরিকল্পনা সাজানোর ক্ষেত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। পাসপোর্ট, ভিসা বা ডলারের আকাশছোঁয়া দামের দুশ্চিন্তা এড়িয়ে এখন অনেকেই দেশের ভেতরের লুকিয়ে থাকা স্বর্গীয় স্থানগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। পরিসংখ্যান এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বলছে, সুইজারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, বালি কিংবা মালদ্বীপের মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর হুবহু বিকল্প ভারতের বুকেই বর্তমান, যা পর্যটকদের বিদেশের চেয়ে অনেক কম খরচে একই রকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও দেশীয় অর্থনীতির বিকাশ
বিদেশে হানিমুনের পরিকল্পনা করলে যেখানে মাথাপিছু বা দম্পতি প্রতি কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়, সেখানে ভারতের এই ‘মিনি-বিদেশ’গুলোতে তার চার ভাগের এক ভাগ খরচে ঘুরে আসা সম্ভব। যেমন, সুইজারল্যান্ডের বিকল্প হিসেবে কাশ্মীরের গুলমার্গ ও পহেলগাম কিংবা মালদ্বীপের বিকল্প হিসেবে আন্দামানের হ্যাভলক ও নীল আইল্যান্ডের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে। এই প্রবণতার ফলে দেশের টাকা যেমন দেশেই থাকছে, ঠিক তেমনই স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী, গাইড ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বৈচিত্র্যের সমাহার ও ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা
ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এতটাই সমৃদ্ধ যে, ইউরোপের ফিল পেতে হিমাচলের খাজ্জিয়ার বা কেরালার আলেপ্পি-মুন্নার যেমন রয়েছে, তেমনই থাইল্যান্ডের ক্রাবি বা ফি ফি দ্বীপপুঞ্জের আমেজ দিতে প্রস্তুত মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও ডাউকি। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ বিমান যাত্রা এবং অতিরিক্ত ট্যাক্সের যে ঝামেলা থাকে, দেশীয় পর্যটনে সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো একঝটকায় দূর হয়ে যায়। ফলে নবদম্পতিরা কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী প্রচারণার ফলে আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্প বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।