ভোর ৪টের ইমেইলেই স্বপ্নভঙ্গ, মেটায় চাকরি হারালেন আরও ৮০০০ কর্মী!

সান ফ্রান্সিসকো: ভোর ৪টে। গভীর ঘুমে মগ্ন কর্মীরা। ঠিক তখনই ইনবক্সে এসে পৌঁছাল একটি ইমেইল। আর সকাল হতেই সেই ইমেইল খোলার পর নিমেষের মধ্যে জীবন বদলে গেল কয়েক হাজার মানুষের। ঘুম ভেঙে তাঁরা জানতে পারলেন, সংস্থায় তাঁদের আর কোনো প্রয়োজন নেই। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মন্দার আবহে এভাবেই এক ধাক্কায় আট হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করল ফেসবুকের অভিভাবক সংস্থা ‘মেটা’। এই বিপুল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে মেটার মোট ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজারে।
ছাঁটাইয়ের অভিনব ও নিষ্ঠুর কৌশল
কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এবার এক নজিরবিহীন এবং কৌশলগত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা। যে আট হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কয়েকদিন আগে থেকেই আকস্মিকভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোররাতে ইমেইল পাঠিয়ে তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক এই ধাক্কার পাশাপাশি আরও প্রায় সাত হাজার কর্মীর চাকরি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যাঁদের আপাতত অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মেটা তাদের নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ স্থগিত করেছে। পূর্বপরিকল্পিত প্রায় ছয় হাজার শূন্যপদে আর কোনো নিয়োগ করা হবে না বলে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কারণ ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর দ্রুত উত্থান এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনই এই গণছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ। মেটা তাদের বিপন্ন প্রায় সাত হাজার কর্মীকে ছাঁটাই না করে আপাতত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগে স্থানান্তরিত করেছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে সংস্থাটি এখন মানুষের চেয়ে প্রযুক্তির ওপর বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সামগ্রিক প্রযুক্তি বাজারের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। লে-অফ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘Layoffs.fyi’-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় বিপর্যয় চলছে। বছরের এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ১৪৪টি প্রযুক্তি সংস্থা থেকে মোট ১ লক্ষ ১০ হাজার ২২৩ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। মেটার পাশাপাশি টেক জায়ান্ট অ্যামাজন ১৬ হাজার এবং ওরাকেল বিশ্বজুড়ে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করেছে। মেটার এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।